দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নকআউট পর্ব শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াই নিয়েও আলোচনা জমে উঠেছে। কে এগিয়ে, কোন দল সবচেয়ে বড় দাবিদার এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনাল্ডো নাজারিও। তার চোখে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী চারটি দল হলো ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও জার্মানি (ইতোমধ্যে জার্মানি বিদায় নিয়েছে)। তবে একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়ে ছন্দে ফিরতে পারলে ব্রাজিলও শিরোপা জয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচের আগে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো বলেন, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে শক্তির বিচারে কয়েকটি দল অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তার মতে, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও স্পেন টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ফুটবল খেলছে। আর জার্মানি (ইতোমধ্যে জার্মানি বিদায় নিয়েছে) এমন একটি দল, যারা বড় আসরে কখনোই অবহেলার সুযোগ দেয় না। এই চার দলই ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তির কথা বললেও নিজের দেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী রোনাল্ডো। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে নেইমারের পারফরম্যান্সের ওপর। দীর্ঘ সময় ইনজুরিতে থাকার পর ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে ফিরেছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে না পারলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছেন তিনি।
রোনাল্ডোর মতে, বর্তমান ব্রাজিল দলে নেইমারের মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আর কোনো ফুটবলারের নেই। তিনি বলেন, নেইমার এখন পুরোপুরি ফিট এবং চিকিৎসকদের অনুমতিও পেয়েছেন। তাই নকআউট পর্বে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সমালোচকদের জবাব দেয়ার সুযোগ তার সামনে রয়েছে।
নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন ব্রাজিলের দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে গুরুতর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানোর স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, বড় চোটের পর আবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে আসা কতটা কঠিন, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সেই কারণেই নেইমারের প্রত্যাবর্তন তাকে রোমাঞ্চিত করছে। রোনাল্ডোর ভাষায়, নেইমারের আর কাউকে কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। তবে নিজের সেরা ফুটবল খেলতে পারলে তিনি আবারও সবাইকে ভুল প্রমাণ করতে পারবেন।
যদিও এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত পারফর্মার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চার গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে রয়েছেন এবং আক্রমণভাগে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে রোনাল্ডো মনে করেন, ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্মের সঙ্গে যদি নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা যোগ হয়, তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই এখন বাঁচা-মরার লড়াই। এমন সময়ে ব্রাজিলের সামনে যেমন কঠিন প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্নও।
কেএম